Skip to main content

 

ঘন কুয়াশা ভেদ করে একটা সাইকেল যাচ্ছে। সাইকেলের পিছনে দুদিকে দুটো পা ঝুলিয়ে মাকে জড়িয়ে বসে এক ছেলে, স্কুল ড্রেস পরা। একদল বাচ্চা বাচ্চা কুকুর দৌড়ালো। বাচ্চাটা ডাকল, আয়, আয়, আয়। মা বলল, ওদের কেন ডাকছ রাস্তায়...কুয়াশা.. গাড়ি চাপা পড়বে না!

বাচ্চা ছেলে বলে উঠল, যা...যা...যা...বিকেলে রোদে খেলতে আসিস....আমি আসব...মা বিকেলে ওদের বিস্কুট দেব?

মা বলল, হ্যাঁ।

মা সাইকেল চালাতে চালাতে বলছে, স্কুলে মারামারি করবে না....স্যারের পড়া শুনবে...টিফিন নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি না...ভাগ করে খাবে....ভাগ করে খেলে বড় হয় মানুষ.... তোমার ভাইবোন নেই.. ওরা বন্ধু....খারাপ শব্দ উচ্চারণ করবে না.....জিভে মা সরস্বতী থাকেন.....কষ্ট পান.....

সন্তান বিপথে গেলে সব চাইতে বেশি কষ্ট পায় মা। ওই কষ্টটা না পাওয়ার চেষ্টাই ধর্ম। মানুষের ধর্ম। শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানে মা'কে প্রতিষ্ঠা। শান্তি গন্তব্য নয়, পথ। শান্তি অশান্তির বিপরীত শব্দ না। দিশাহারা অশান্তি অঘটন। মা থাকলে দিশা থাকে। অশান্তিও ভ্রষ্ট হয় না।

ছেলেটা স্কুলে নেমে গেল। কুয়াশায় মিলিয়ে যাচ্ছে কত কত শিশু। মায়েরা দাঁড়িয়ে রাস্তায়। সন্তান মানুষ হোক। সন্তান বিপথগামী হলে সব চাইতে বেশি কষ্ট পায় মা। মা কষ্ট পেলে ধর্মহীন হয় সংসার। ভিত নড়ে ওঠে। গ্রহণ লাগে ঈশ্বরের মহিমায়।