অতীতের সরল বিশ্বাসগুলোকে এখন বোকামি মনে হয়। নির্ভেজাল বোকামি। ষাটোর্ধ মানুষটা পার্কের বেঞ্চে বসে বসে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলে, আর তো ক'টা দিন।
বিবেক মানে ঈশ্বর নয়। ঈশ্বর কি সামাজিক? সাইকেল থেকে বাচ্চাটা পড়ে গিয়ে হাঁটু কাটল। উনি উঠে যেতেই পারতেন। গেলেন না। আরো অনেকে এসে গেছে বলে আর উঠলেন না। আগে হলে নিজেকে অসংবেদনশীল বলে সন্দেহ হত। ভালো করে বললে, অন্যে কী ভাবত সেটাই নিজের ভাবনা হয়ে জ্বালাত। এখন জ্বালায় না। অন্যের থেকে নিজেকে আলাদা করতে এতগুলো বছর লাগায় মানুষ!
সন্ধ্যে নামলে আরো প্রসারিত হয় আত্ম-অনুভব। অন্যেরা দেখার বাইরে চলে যায়। নিজেকে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। বিবেক মানে ঈশ্বর নয়। বিবেক মানুষের। ঈশ্বর তো মানুষ নন। মহাকাল। সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় - এ কি মানুষের কাজ!
"দাদু বাড়ি যাও...."
রাত হচ্ছে। পাড়ার ছেলেরা তাস খেলবে। নেশা করবে।
হাঁটু কোমোর সামলিয়ে উঠলেন। ভাবনার আগেই পা এগিয়ে গেছে। চেনা রাস্তা। চেনা রুটিন। একটা জীবন পেয়েছিলেন। কী চাইলেন? কী পেলেন? সুখ..ন্যায়বিচার....নামযশ... পাকাবুদ্ধি....স্বাস্থ্য....কী পেলে সত্যিকারের সুখী হতেন?
ভাবতে ভাবতে ফ্ল্যাটে পৌঁছালেন। দরজাটা খুলতেই চেনা সংসারের গন্ধ এলো। একা সংসারের গন্ধ। কী পেলে সুখী হতেন? আলো জ্বালতে জ্বালতে উত্তরটা যেন পেলেন। আবছা উত্তর। সুখের কোনো সংজ্ঞা না জানলে সুখী হতেন। এত বিহ্বলতায় কাটত না হয় তো জীবন। কে জানে!