আক্ষেপ একটা বিতিকিচ্ছিরি জিনিস। মনে মনে রাতদিন নিজের গালে চড় মারা। নিজেকে দস্তুর ক্ষেপিয়ে তোলা। বারবার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেকে বলা, ওহে কী হল? কী করলে? গোটা আক্ষেপ জুড়ে ইগো ইগো গন্ধ।
অনুশোচনা এর চাইতে ঢের ভালো। অন্তত কিছু দূর সে ঠিকঠাক। ভুল করেছি। মেনে নিলাম। কষ্ট পেলাম। ধীরে ধীরে সে কষ্ট মিলিয়ে গেল। কিন্তু আক্ষেপের সে বালাই নেই। একবার খুঁচিয়েছ কী গেলে। রাতদিন কানের কাছে প্যানপ্যান করবে - ইস, কী করলে বলো তো....এটা যদি এইভাবে করতে....তখন যদি ওটা চয়েস করতে....ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ। উফ! চুলচেরা বিশ্লেষণ? উঁহু! চুলচেরা, চুল সেদ্ধ, চুল ভাজা, চুল পোড়া....সব সব সব জাতের বিশ্লেষণ। মাথা খেয়ে রেখে দেবে।
ওদিকে অনুশোচনার সে বালাই নেই। সে বলবে, হ্যাঁ ভুল করেছি....কষ্ট পাচ্ছি তো ভাই তার জন্যে.....অতশত মাথা ঘামিয়ে কী হবে? কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ক্ষান্তি দেবে।
অনুশোচনায় চিত্তশুদ্ধি হয়। মাথাটা সত্যের পায়ে রেখে যখন বলি, হ্যাঁ ভুল আমার ছিল। সে খানিকবাদে শুদ্ধ চিত্তে ফিরে আসে আবার সংসারে। কিন্তু যে আক্ষেপকারী?...সে কোথাও মাথা নীচু করে না। সে উঁচু মাথাটা মেরে মেরে ক্ষতবিক্ষত করে বোঝাতে চায় সে ভুলের মাশুল দিচ্ছে। বিরাট করে নিজেকে শাস্তি দিচ্ছে। এ একটা ফাঁদ। ভ্রম। যা ঘটে তা সময়ের সামনে ঘটে। আক্ষেপ সময়কে মানে না। নিজেকে মানে। সব নিজের সামনে ঘটানোর অভিনয় করে। সময়কে উপেক্ষা করে শুধু সময় নষ্ট করে। যখন বোঝে তখন আক্ষেপ নিয়ে আক্ষেপ হয়। আবার নতুন খেলা শুরু হয়।